জননেতা এম এ মজিদ(সাবেক এম,এন,এ)
জননেতা এম এ মজিদ উত্তর হালিশহরের বাড়ি ছেড়ে চলে যান বহদ্দার হাটে-ঐ বহদ্দার হাটে অবস্হা কালে রাজাকারদের সহযোগীতায় জননেতা এম এ মজিদ এপ্রিল মাসের প্রথমদিকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী হাতে গ্রেফতার হন।
জন্ম :
১৬ জুলাই ১৯২৩ সালে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর হালিশহরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জননেতা এম এ মজিদ জন্ম গ্রহন করেন।
তাঁর পিতার নাম আলহাজ্ব মহব্বত আলী সরকার এবং মাতা রহিমা খাতুন। এম এ মজিদ- চট্টলশার্দুল এক দফার প্রবক্তা জননেতা এম এ আজিজ এর আপন ছোট ভাই।
জননেতা এম এ মজিদ ছিলেন দেশপ্রমিক,সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ও প্রচার বিমুখ একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ ।১৯৭০/৭১ সালে জাতির ক্রান্তিলগ্নে চট্টল শার্দুল জননেতা এম এ আজিজের পাশাপাশি/অনুপস্হিতে এম এ মজিদের অবদান ছিল অনেক।
সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধে এম এ মজিদ।
সোয়াত অবরোধ বিপ্লবতীর্থ চট্টগ্রামের জনগণের একটি অনন্যসাধারণ বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম যা বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে উজ্জ্বল মাইলফলক। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার ভান করে ইয়াহিয়া-ভুট্টো বাঙালি জাতির ওপর আঘাত হানার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়েছিলো অস্ত্র বোঝাই সোয়াত জাহাজ। কিন্তু সেই জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসে ব্যর্থ হলো তারা নিরস্ত্র জনতার প্রতিরোধের মুখে। ১৯৭১ ইং ২৪ মার্চ বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কলোনির মাঠে সোয়াত অবরোধের লক্ষে একটি সমাবেশ ডাকা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে বিকেল ৪টায় শুরু হয় সমাবেশ। এম এ হান্নান, এম এ মজিদ ছাড়াও বক্তৃতা করেন মো. ইউসুফ, আবুল হোসেন (বুলবুল), আলী আকবর, নুর মোহাম্মদ, সাবেক কমিশনার কামালউদ্দিন, ডা. আইয়ুব আলী, ডা. নুরুল হক, এম এ হালিম মেম্বার, আমিনুল হক চেয়ারম্যান, জাফর মেম্বার, এজাহার মিয়া, এখলাসুর রহমান, কামাল উদ্দিন, বশর বয়লার প্রমুখ মধ্যম ও দক্ষিণ হালিশহর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
ছাত্র নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন:
মো. মুসা আল-নূরী, নূরুল আলম, মহিউদ্দিন শফি, জানে আলম, কাজী নূর মোহাম্মদ, সিরাজুল হক মানিক, জাফর আহম্মদ জাফরী, মঞ্জুর কাদের, খোরশেদ আলম, আহমদ শরীফ, শামসুল আলম, ফরিদ উদ্দিন, জানে আলম, মো. হারুন, মফিজুর রহমান, মো. আনোয়ার এবং আবদুল্লাহ। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নেন সোয়াত জাহাজ থেকে কিছুতেই অস্ত্র ও সৈন্য নামাতে দেয়া যাবে না। যেকোন মূল্যে তা প্রতিরোধ করতে হবে। সোয়াত প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিতে বলেন। জহুর আহমদ চৌধুরী, এম এ আজিজের অনুজ মজিদ মিয়া এম এন এ, ইসহাক মিয়া এমপি, আতাউর রহমান কায়সার এম এনএ, আবদুল্লাহ আল হারুন এমপি, আবু সালেহ এমএনএ প্রমুখ সংসদ সদস্য এবং জেলা ও শহর আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এস এম জামালউদ্দিন, মোহাম্মদ হারিছ প্রমুখ সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাস ঠেকাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে দুর্বার প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলেন। সূত্র : বিডিনিউট২৪ - দৈনিক পূর্বদেশ। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন, গ্রেফতারের পর তাকে প্রথম চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের সি.জে.কে.পি. ভবনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে এবং পরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাখা হয়, এরপর প্রায় এক মাস পরিবারের সাথে তার কোন যোগাযোগ বা কোন খবর না পেয়ে যখন চরম উৎকন্ঠায় ছিল ঠিক সেই সময় ২রা জুলাই, ১৯৭১ ইং তারিখে ঢাকা সেন্ট্রাল জেল থেকে তাঁর লেখা একটি চিঠি তাঁর পরিবারে হাতে আসে, পরবর্তীতে জেল থেকে তিনি তাঁর পরিবারের বিভিন্ন জনকে সম্বোধন করে বেশকটি চিঠি লিখেন,তৎমধ্যে ০৮-১১-১৯৭১ তারিখে তাঁর ছোট ভাই অর্থাৎ বর্তমান হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল করিম কায়সারের পিতা জনাব মোহাম্মদ ইউনুছ’কে চিটি লিখেন।
বঙ্গবন্ধুর সাথে স্বাক্ষাৎ
মার্চ মাসের মধ্য তারিখের কিছু দিন পর জননেতা এম এ মজিদ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন ২-৩ দিনের জন্যে এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাতের এক পর্যায়ে বললেন চট্টগ্রাম বিমানবন্দর অচল করে দেওয়ার জন্য উনি চট্টগ্রাম এসে নেতৃবৃন্দের নিয়ে বিমান বন্দরের কাজের জন্য আনা পাথর রানওয়ে তে বিছিয়ে দিয়েছিলেন পরবর্তিতে তৎকালীন ই পি আর অফিসার মেজর রফিক সাহেব উনার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন খুব সম্ভবত মেজর রফিক revolt করার সময়কালে
কারাবরণ
২৫ মার্চ ১৯৭১ স্বৈরাচারী পাকিস্তান অতর্কিত ঘুমন্ত বাঙ্গালীর উপর হামলা করে নিরাস্ত্র বাঙ্গালীকে হত্যায় মেতে উঠে। বঙ্গবন্ধু স্বাধিনাতা ঘোষণা করলে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ ঠিক সে সময় জননেতা এম এ মজিদ উত্তর হালিশহরের বাড়ি ছেড়ে চলে যান বহদ্দার হাটে-ঐ বহদ্দার হাটে অবস্হা কালে রাজাকারদের সহযোগীতায় জননেতা এম এ মজিদ এপ্রিল মাসের প্রথমদিকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী হাতে গ্রেফতার হন।পুরো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এম এ মজিদ কারাগারে বন্দী জীবন কাটান পরে বাংলাদেশ স্বাধিন হলে তিনি ১৭ ডিসেম্বর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে আপন নিবাসে ফিরে আসেন।
শিক্ষানুরাগী এম এ মজিদ।
হালিশহর থানাধীন উত্তর হালিশহর ২৬ নং ওয়ার্ডে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত হালিশহর আলহাজ্ব মহব্বত আলী একাডেমি ১৯৬৮ সালে ১ জানুয়ারি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এম. এ. মজিদ(সাবেক এম.এন.এ) গ্রামের ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুযোগ করে দেয়ার উদ্দেশ্যেই মূলত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা করেন।
পরবর্তী ১৯৯৬ সালে সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠকে সিটি কর্পোরেশন ভুক্ত করে হালিশহর আলহাজ্ব মহব্বত আলী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় নামকরণ করেন।
এছাড়া মরহুম এম এ মজিদ তাঁর বাড়ীর পাশে ৩৭ নং ওয়ার্ডে অপূর্ব স্হাপত্য শৈলি সমৃদ্ধ একটি মসজিদ স্হাপন করেন যা এম এ আজিজ জামে মসজিদ হিসেবে পরিচিত।
মৃত্যু :
প্রচার বিমুখ এই শিক্ষানুরাগী ,সমাজ সেবক, রাজনীতিবিদ ১৯৯৯ সালে ১৪ নভেম্বর চলে গেলেন নাফেরার দেশে আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন-আমিন




কোন মন্তব্য নেই
please do not enter any spam link in the comment box.